শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ ইং, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১ রবিউস-সানি ১৪৪২ হিজরী

You Are Here: Home » আসনের হালচাল » ঢাকা-১৮ হাবিব ও সিরাজগঞ্জ-১ জয় বিপুল ভোটে জয়ী

ঢাকা-১৮ হাবিব ও সিরাজগঞ্জ-১ জয় বিপুল ভোটে জয়ী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনে দুটি আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী। ঢাকা-১৮ আসনে নৌকার প্রার্থী হাবিব হাসান ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। অবিলম্বে তারা দুটি আসনে নতুন নির্বাচন দাবি করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলে। দুটি আসনেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেয়া হয়।

রাতে গণনা শেষে ঢাকা-১৮ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন ভোটের ফল ঘোষণা করেন। এতে ঢাকা-১৮ আসনের নৌকার প্রার্থী হাবিব হাসান পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৬৯ ভোট। এ আসনে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ১৮৮ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৮১ হাজার ৮১৮ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটগ্রহণের হার ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর-সদরের একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তানভীর শাকিল জয় জয় পেয়েছেন।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবুল হোসেন ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে দেখা যায়, ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন নৌকা প্রার্থী। পক্ষান্তরে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজা পেয়েছেন মাত্র ৪৬৮ ভোট। এ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭৬৪।

ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অপরদিকে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে শুধু আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন ৯ জুলাই মারা যাওয়ায় ঢাকা-১৮ আসন এবং মোহাম্মদ নাসিম ১৩ জুন মারা গেলে সিরাজগঞ্জ-১ আসন শূন্য ঘোষণা করে জাতীয় সংসদ।

নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া ঢাকা-১৮ আসনে জাতীয় পার্টির মো. নাসিরউদ্দিন সরকার পেয়েছেন ৩২৫ ভোট। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ওমর ফারুক ৯১, গণফ্রন্টের কাজী মো. শহীদুল্লাহ ১২৬ ও পিডিপির মো. মহিববুল্লা বাহার ৮৭ ভোট পেয়েছেন।

সরেজমিন ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকালে প্রায় সব কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি তেমন ছিল না। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা বাড়লেও তা ছিল খুবই নগণ্য। বেশিরভাগ ভোট কক্ষে দেখা যায়নি বিএনপির কোনো এজেন্ট। কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা দেখা যায়। এছাড়া বেশিরভাগ কেন্দ্রের সামনে নৌকার পোস্টার থাকলেও ধানের শীষের পোস্টার খুব একটা চোখে পড়েনি। তবে প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে ও ভেতরে করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সচেতনতার ব্যানার টানিয়ে রাখতে দেখা দেছে।

উত্তরার আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের সামনে সাড়ে ৮টার দিকে আ’লীগের নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল। সকাল ৯টার দিকে একটি মহিলা বুথে ১০-১২ জন ভোটারের একটি লাইনও দেখা গেছে। এ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পাশাপাশি ভোট দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় যেসব ভোটারের মুখে মাস্ক ছিল না তাদের মাস্কও সরবরাহ করতে দেখা গেছে এ কেন্দ্রের সামনে।

দুটি ভোট কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ : বেলা ১১টার দিকে উত্তরার ৮ নম্বর সেক্টরের মালেকা বানু আদর্শ বিদ্যা নিকেতন স্কুলের ভোট কেন্দ্রে ৮টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই স্থান থেকে সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করা হয়। এছাড়া নয়টি ককটেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় জব্দ করে পুলিশ। এর ঘণ্টাখানেক পর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কামারপাড়ার একটি কেন্দ্রেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানেও পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সোহেল নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। কেন্দ্র উপস্থিত ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top