শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ ইং, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১ রবিউস-সানি ১৪৪২ হিজরী

You Are Here: Home » ফেসবুক কর্নার » ‘আমার পিতা প্রফেসর মযহারুল ইসলাম, আমার সকল সুকুমার বৃত্তির উৎস’

‘আমার পিতা প্রফেসর মযহারুল ইসলাম, আমার সকল সুকুমার বৃত্তির উৎস’

লিখেছেনঃ প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা

মৃত্যু মাঝে ঢাকা আছে যে অন্তহীন প্রাণ ।পরাভব মানে না যে জন, পরাজয় মানে না যে প্রাণ । মানুষকে ভালোবেসে যিনি বয়ান করে গেছেন অমানবিক সব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট অভিযোগ ও পরিত্রানের নির্দেশনা।
১৫ নভেম্বর ড.মযহারুল ইসলামের ১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী । আমার পিতা প্রফেসর মযহারুল ইসলাম আমার সকল সুকুমার বৃত্তির উৎস। আমার বাবা বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন : সে সব নিয়ে আমার কোন গর্ব, অহংকার নেই ।
আমার বাবা সারাজীবন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন : জেল, জুলুম, রাজনৈতিক হয়রানী কোন কিছুই তাকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি । সেটিই আমার গর্বের,সেটিই আমার অহংকার ।
বাবা আমাকে প্রায়ই বলতেন সমাজে হিংসা, বিদ্বেষ,দ্বন্দ্ব সংঘর্ষ রয়েছে – তার মাঝ থেকে তোমাকে চির সুন্দরকে উললব্ধি করতে হবে।
বাবা আমাকে শিখিয়েছেন তুমি তোমার চারপাশের মানুষকে ভালো বল, সুন্দর বল, তাদের কাজের প্রশংসা কর,দেখবে তোমার অন্তর বিকশিত হবে ।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবার পর, কয়েকদিনের মধ্যেই প্রফেসর মযহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবন থেকে।
জিয়াউর রহমান বিনা বিচারে ৩৩ মাস বাবাকে কারাগারে আবদ্ধ রাখে। জেল থেকে মুক্ত হবার পর প্রফেসর মযহারুল ইসলামকে বিনা কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পদে যোগ দিতে দেয়া হয়নি।তাই বাবার জীবনে ছিল জেল জুলুম, রাজনৈতিক হয়রানী সহ অনেক প্রতিকূলতা। কিন্তু সেই প্রতিকূলতা প্রফেসর মযহারুল ইসলামকে ভেঙ্গে ফেলতে পারেনি।তাঁকে আরো ইস্পাতের মত শক্ত মানুষে পরিণত করেছে। বাবা তার জীবনে সকল গৌববের সিংহাসন আপন শক্তিতে অর্জন করে গেছেন।
বছর ঘুরে আবার এসেছে ১৫ নভেম্বর। এখনও আমার বিশ্বাস হয় না বাবা তুমি আজ আমাদের মাঝে নেই। সীমার বন্ধন মুক্ত হয়ে, আজ অসীমে পরিব্যাপ্ত তোমার অমৃত ময় সত্ত্বা। তবে আমি সবসময়ই অনুভব করি, তোমার দূর্লভ উপস্থিতি আমার অস্তিত্বে। আমি দেখি প্রসন্ন হাসিতে উজ্জ্বল তোমার মুখ, আর স্নেহ প্রসারিত বাহুদুটি। তোমার কীর্তির মহাসমুদ্র যে, কত গভীর,কত বিরাট, সে বিচার করবে মহাকাল।  আমি শুধু উপলব্ধি করি তোমার অন্তর নি:সৃত স্নেহের নির্ঝর ধারা। মৃত্যু শুধু নিয়েছে, তোমার নস্বর সত্বাটিকে। আমাদের অন্তরে তুমি বিরাজ করছো, শ্বাশত, অমৃতরূপে। তোমার সেই মৃত্যুঞ্জয়ী রূপের পায়ে রইলো আমাদের শ্রদ্ধার শতদল ।
প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা
সদস্য,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কার্যনির্বাহী সংসদ ।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top