বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ ইং, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ রবিউস-সানি ১৪৪২ হিজরী

You Are Here: Home » এক্সক্লুসিভ » চিকিৎসকদের ন্যূণতম উৎসাহপ্রদান করা হচ্ছে না কেন?

চিকিৎসকদের ন্যূণতম উৎসাহপ্রদান করা হচ্ছে না কেন?

নিউজ ডেস্কঃ

বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব ও চিকিৎসক ডা. আব্দুন নুর তুষার তার ফেসবুক ওয়ালে  কোভিডের এই সময়ে চিকিৎসকদের সেবাদান ও তার প্রাপ্তি নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন যা পাঠকেরজন্য হুবুহু তুলে ধরা হল..

১. বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার বহু সমস্যা থাকবার পরেও এবং অনিয়ন্ত্রিতে করোনা সংক্রমণের পরেও মৃত্যুহার অনেক কম। চিকিৎসায় মানুষ ভালো হচ্ছে। এখানে কি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের দক্ষতা ও নিষ্ঠা প্রমাণিত হয় নাকি এটা দাপ্তরিক আদেশবলে হচ্ছে?

তাহলে চিকিৎসকদের ন্যূণতম উৎসাহপ্রদান করা হচ্ছে না কেন?

সামান্য প্রশংসা করতেও কি পয়সা লাগে?

২. করোনা আসবার পর যখন তখন বামরুনগ্রাদ, মাউন্ট এলিজাবেথ, চেন্নাই , কোলকাতা যাওয়া রোগীরা তাদের বিদেশী চিকিৎসকের কাছে যেতে পারছেন না। তাদের অনেকেই দেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা কি সব মরে যাচ্ছেন নাকি চিকিৎসা পেয়েছেন? কারা তাদের চিকিৎসা করছেন? এ বিষয়ে একটা গবেষণা খুব জরুরী । সর্দি হলেও বিদেশ যাওয়া লোকগুলি কি দেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় স্বর্গপ্রাপ্ত হয়েছেন?

৩. পত্রিকাতে কেন খবর বের হচ্ছে যে পাশের দেশে বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে রোগীর অভাব? যদি এটা সত্য হয়, তবে তাদের দেশে কি রোগী নাই? এই হাসপাতালগুলির বিরাট মুনাফা কেবল আমরাই টিকিয়ে রাখছিলাম?

তার মানে কি এই যে তাদের রোগীরা অন্য হাসপাতালে বেশী যায় আর আমরা যাই এসব হাসপাতালে? যদি সেটাই হয় তাহলে নিজের দেশে রোগী কম পায় কেন এই হাসপাতালগুলি?

পৃথিবীর দেশে দেশে স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের কি প্রশংসা ও প্রেরণাই না দিয়েছে মানুষ। আমেরিকাতে স্বাস্থ্যবীমা সমস্যার কারনে বহু মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট। সেসব অজুহাতে তো তারা ডাক্তারের সম্মান দেয়া বন্ধ করে নাই।

আমাদের দেশে না কর্তৃপক্ষ না মানুষ, কারো মধ্যেই এতটুকু সহানুভূতি নাই। অথচ ২০০ এর বেশী চিকিৎসক করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

বেসরকারী ক্লিনিক হাসপাতাল মেডিকেল কলেজে ডাক্তারের বেতন কমিয়ে দেয়া হয়েছে। অনেকের চাকুরী গেছে।

মেশিন চালিত অবৈধ রিকশাচালকের চেয়ে একজন তরুন চিকিৎসকের বেতন ভাতা কম বেসরকারী হাসপাতালে। তার রিকশা কেড়ে নেয়ায় যে হাহুতাশ , দৈনিক ৬০০ টাকার বিনিময়ে অস্থায়ী চাকুরী করা চিকিৎসকদের নিয়ে বড় বড় মাথারা কোন দিন চিন্তাও করে না।

এগুলো কোন অভিযোগ না। কোন ক্ষোভও না। এটা কেবল বাস্তবতা জানানো।

যে আপনার প্রাণ বাঁচায় তার প্রতি আপনার ব্যবস্থা , সমাজ ও অনেকের ব্যক্তিগত ব্যবহার এইরকম ।

বাংলাভাষায় প্রবাদ আছে দুধ দেয় গরু , লাথি দিলেও সই। গরুর বেলায় এটা হয়তো সত্য, মানুষের বেলায় না।

প্রাণবাঁচায় যে তাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নিরাপত্তাহীণতায় রেখে কি পাবে ভবিষ্যতের মানুষেরা?

ডাক্তার মানেই প্রফেসর না। বাংলাদেশে হাজার হাজার তরুন চিকিৎসক কি করছেন তার খবর নিয়ে দেখেন। হালাল রুজি করার জন্য অনলাইনে কেক থেকে কাপড় এর ব্যবসা পর্যন্ত করছে এই তরুনেরা।

এটা শুধু একটা পেশার খবর। অন্য পেশাজীবিরা ?

আমার কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নাই। সারাজীবন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলাম। চাকুরী প্রমোশন নেতাগিরি কোন আগ্রহ নাই। কোন বানিজ্য নাই। আমি কাজ করেছি অন্যভূবনে।

আমার পড়াশোনা ও পরীক্ষাগুলির ফলাফল আমার বন্ধুরা জানে। জানেন আমার শিক্ষকরা। অতএব এসব নিয়ে ঘ্যানাপ্যাচাল পাড়ার কিছু নাই।

কেন বলি? এভাবে চললে মেধাবীরা আর চিকিৎসক হবে না। তখন সত্যই ডাক্তারের হাতে মরবেন। আপনি কি জানেন মরার আগে আপনি ঠিক সময়ে সিংগাপুরে যেতে পারবেন কিনা?

যদি এখানেই মরেন, তবে যাদের যত্নে মরবেন, তাদের সামান্য যত্ন করেন।

দয়া করে ভাবেন।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top