বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ ইং, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ রবিউস-সানি ১৪৪২ হিজরী

You Are Here: Home » ফটো গ্যালারী » এ শহরে সবাই প্রাণখুলে হাসে না

এ শহরে সবাই প্রাণখুলে হাসে না

বিনোদন গ্যালারী প্রতিবেদকঃ

শিল্পী দম্পতি তানভীর তারেক ও অনিমা রায়, তাদের দু’জনের আলাদা পরিচয়ও আছে তানভীর বিশিষ্ট বিনোদন সাংবাদিক আর অনিমা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের  সংগীতের সহযোগী অধ্যাপক। এই দম্পতির শনিবারে পারিবারিক আড্ডা ছিল আরেক বিখ্যাত শিল্পী দম্পতি লিলি  ইসলাম ও চয়ন ইসলামের  বাসায়। লিলি ইসলাম শুধু বিখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পীই না তিনিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক,গবেষক। আর চয়ন ইসলাম পুরো দস্তুর রাজনীতিবিদ, সাবেক দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, শিল্পপতি। দুজনেই  প্রাক্তন শান্তিনিকেতন।

আড্ডায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত  শিশু সাহিত্যিক আমিরুল ইসলাম, চিত্রনায়িকা অরুনা বিশ্বাস , সস্ত্রীক অভিনেতা মুজিবুর রহমান দিলু ও চিত্রশিল্পী মোস্তাফিজুল ইসলাম।

তানভীর তারেক আড্ডার অনুভূতির কথা তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেছেন। পাঠকের জন্য তা হুবুহু তুলে ধরা হল…….

এ শহরে সবাই প্রাণখুলে হাসে না।
মাপা হাসি চাপা কান্নার এই রেওয়াজে সবার সাথে ঠিক সেভাবে মেশাও হয়না। ইচ্ছেও করে না।

অথচ! ফেসবুকে ৫০০০ বন্ধুর পরও বেশ কিছু পেন্ডিং। ঈর্ষার বড়ি খাওয়া মানুষেরা তো আজকাল লাইক দিবে না লাভ দিবে, সেই দ্বিধায় কারো কারো কৌষ্টকাঠিন্যও চলে!

অনেকেই ভাবে- না দিলে কী হয়?
অরুণা দি আজ খুব দারুণ বললেন,‘
মনে হয় যেন একটা লাভরিয়াক্ট দিলে
ওর পকেট থেকে ১০ ডলার চুরি হয়ে গেল!’

এছাড়াও কিছু কিসিম আছে ওরা ভাবে-
ওর ছবিতে কমেন্ট করলে কী বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে?

কিছু সিসিক্যামেরা নামের সুশীল তো রয়েছেই। যারা ফ্রেন্ডলিস্টে থাকবে কিন্তু অশরীরি!

আর যাদের সাথে প্রাণখোলা সম্পর্ক থাকে। তাদেরকে সবসময় দেখা/ কথা না হলেও মনে হয় খুব আপন। সেই প্রাণের মানুষদের আড্ডাতেই আজ দারুণ এক সময় কাটল।

বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী লিলি ইসলাম / আমাদের লিলি’দির একটা বিষয় আমার খুব অবাক লাগে।

আমার যে কোনো লেখা, গান বা কোনো টিভি শো তার ভাল লাগলে বা কোনো বিষয়ে একটু খটকা লাগলে তিনি ফোন দিয়ে বলেন /প্রশংসা করেন।

এই স্বার্থের শহরে এরকম অনুপ্রেরণা দেবার মানুষ খুব কম। এই স্বভাবের মানুষগুলোও কমছে দিনকে দিন।

বড় ভাই আমীরুল ইসলামের কথা আর কী বলবো-যার সাথে আড্ডার শুরু থাকে, শেষ করতে ইচ্ছে করেনা।

দিলু ভাইয়ের সাথে অনেকবছর পর দেখা !!

আর অরুণা দি আমার পরিবার। আমার পরামর্শক। কোনো কোনো সময় মনে হয় অনেক পুরণো বন্ধু। অনেক আগে হারায়ে ফেলছিলাম- পরে আবার খুঁইজা পাইছি!

চয়ন দা’র কথা বলি। এ শহরে বেশ ক’জন কোটি পতিদের সাথেই পরিচয় আছে যারা আমাকে চেনেন বলে ধন্য হয়ে যাই মাঝে মাঝে। এদের অধিকাংশের সাথেই ২ মিনিট কথা বললে , যে কোনো উসিলায় তার আর্থিক আভিজাত্য তাকে প্রকাশ করতে দেখি।

একটু উদাহরণ দিয়ে একটা সত্য ঘটনা বলি। এক বড় ভাইয়ের বাসায় দাওয়াতে গেছি। বড়ভাইকে দেখেই মনে হলো তার ঘাড়ে ব্যাথা।
বললাম, ‘আহারে মনে হয়
ভাইজানের ঘুমটা ভাল হয়নাই?’

জবাবে তিনি বলা শুরু করলেন,‘ আরে বইলো না। গতকাল ইতালি থেকে আসছি। বিজনেস ক্লাস থেকে ফার্স্টক্লাসে টিকিট কনভার্ট করলাম। কারণ মাইগ্রেন ব্যাথা ছিল। ফার্স্ট ক্লাসের টিকিটের দাম জানো তো? আইডিয়া আছে? বলো তো?

আমার জবাবের জন্য তার অপেক্ষা নেই
তিনি নিজেই বলেন, ‘ ৩ বার ফার্স্টক্লাসে যাতায়াতের টাকা দিয়ে ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনা যাবে! বুঝলা?
এরপরও ঘুম এলো না।’

ঘাড় ব্যাথার প্রশ্নে চলে গেলো ফার্স্ট ক্লাসের আভিজাত্যের গল্প। আমি এর ভেতরে দু গ্লাস পানি খেয়ে নিলাম।

অধিকাংশ কোটিপতিদের গল্প এরকম ভাবে ঘুরিয়ে পেচিয়ে টাকার অংকে রুপান্তরিত হয়। ’

চয়ন দা উল্টা। একেবারেই উল্টা। তার বাসায় একধরণের সরল সামাজিকতা পাই। সত্যিকার অর্থে বড়লোক বলতে যা বুঝায়, উনি তা!

যাই হোক –
গত দুই তিনদিন এ বাড়ি ওবাড়ি খেয়ে ওজন প্রায় ৫ কেজি বেড়েছে। আজ কত পদের রান্না গুনতে ভুলে গেছি! আমীরুল ভাইয়ের রান্না করা পাবদা মাছ, লিলিদির খাশীর মাংশ, আর চয়ন দা’র হাতে বানানো কালো জামের কথা মনে থাকবে অনেকদিন।

আড্ডাটা প্রাণশক্তি দেয়।
নিজের ফেসবুকে লিখে রাখি টাইমলাইনের এই দিনের স্মৃতি স্মারক হিসেবে। যাতে ১০ বছর পরেও
এই দিনটির গল্প ছবি দেখে স্মৃতি হাতড়াতে পারি।
জীবন এত ছোট..তার ভেতরে করোনা
খেয়ে দিল প্রায় ১ বছর!

এত দীর্ঘ লেখা কারো বিরক্তির কারণ হলে ‘ সরি’।

ইহা কোনো বাধ্যতামূলক লেখা নয় ,
যে আপনাকে পড়তেই হবে।
আমি আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে লিখে রাখলাম।

এরপরও এতদূর যখন পড়েই ফেলেছেন ..
তখন আর কী করা! একটা লাভ রিয়াক্ট দিয়াই দেন।
কী বলেন ???!!!
আমি পূর্ন নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি – এই পোস্টে লাভ রিয়াক্ট দিবার কারনে আপনার করোনা হবে না !!!
ভালবাসা জানবেন।

– তাতাবয়ান। ২৫ অক্টোবর। বিশেবিষ

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top