শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০ ইং, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১ রবিউস-সানি ১৪৪২ হিজরী

You Are Here: Home » অর্থনীতি-বাণিজ্য » ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে

ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে

নিউজ ডেস্ক:

দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটছে তো ছুটছেই। এর মুখে লাগাম দেওয়া যাচ্ছে না।দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পদতলে জনজীবন পিষ্ট হয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে দৈনন্দিন পারিবারিক চাহিদা মেটাতে পরিবার প্রধানদের উঠছে নাভিশ্বাস। ’

রাজধানীর স্বল্প আয়ের এক চাকুরীজীবী নাম প্রকাশ না করে  বলেন, ‘আজ আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা পড়েছি বিপাকে, যারা কারো কাছে যেতে পারে না বলতে পারে না, না পারে বাসা-বাড়িতে কাজ করতে, তাছাড়া রয়েছে করোনার ভয়। অনেক পরিবারে বাবা-মা ও ছেলেমেয়েসহ কমপক্ষে ৬/৭টি পেট,তাহলে সারাদিনে দাঁড়ায় ১৮ থেকে ২১টি প্লেট, যেখানে ৪০ টাকার নিচে চাল নাই যে চাল অনেকেই খেতে পারে না। আর কাঁচাবাজার!! যা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ’

অন্য দিকে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, শরীরের ইমিউনিটি বাড়াতে হবে ভালো ভালো খেতে হবে। কিন্তু দ্রব্যের যা মূল্য তাতে বেঁচে থাকার জন্য খাবার যোগার করায় দায় হয়ে পড়েছে।

কল্যানপুরের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী নাসির উদ্দিন বলেন, বাজারে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ক্রেতাদের উঠেছে নাভিশ্বাস। পেঁয়াজ-সবজির বাইরে বাজারে এখন চালের দামও প্রতিদিন বাড়ছে। আলুর কেজি ৫০ টাকা। সঙ্গে ভোজ্যতেল, ডিম, আদা, রসুন ও সবজি ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ দাম মানুষকে ভোগাচ্ছে। বাজারে ৫০ টাকা কেজির নিচে সবজি নেই বললেই চলে।

তিনি বলেন, মধ্যবিত্ত জীবনের কি যে কষ্ট তা শুধু মধ্যবিত্তরাই জানে। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আমাদের মতো স্বল্প বেতনের মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে কষ্টে আছে। আমাদের বড় সম্পদ আত্মসম্মান। না পারি কারও কাছে হাত পাততে। না পারি কষ্টের কথা বলতে। বুকে কষ্ট নিয়ে হলেও সমাজের সব শ্রেণীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয় আমাদের।

সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করছেন। সরকারকে কঠোর হাতে অতিলোভী অসাধু এসব ব্যবসায়ীকে দমন করতে হবে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যতালিকা টাঙানো এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে কিনা, সেটি পর্যবেক্ষণের জন্য সব বাজারে দ্রব্যমূল্য মনিটরিং কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করতে হবে।

ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে খোদ ব্যবসায়ীরাও তোপের মুখে পড়ছেন ক্রেতাদের এমনটি জানালেন ভোগপন্যের এক ব্যবসায়ী ।

তিনি বলেন, সব জিনিসের দামই বেড়েছে। ক্রেতারা এসে দাম বেশি শুনে তর্ক শুরু করেন। মোটা আতপ চাল যা গতমাসে পাইকারীতে কেজি ২৭ টাকা ছিলো তা এখন ৩৯ টাকা। স্বর্ণা ৩৪ থেকে বেড়ে ৪৪ টাকায়। বালাম ৪৪ থেকে ৪৮ টাকায়। খোলা সোয়াবিন তেল ৮৭ থেকে এখন ৯৭ টাকায়, পাম অয়েল ৭০ থেকে ৯১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

ভোক্তা অধিকারের এক সহকারী পরিচালক  বলেন, সবজির বাজার সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। কাঁচাবাজারের পণ্যের দাম বাড়ে কমে। তবে কেউ সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করছে এমন প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top