শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০ ইং, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫ জিলহজ্জ ১৪৪১ হিজরী

You Are Here: Home » জিরো আওয়ার » সব বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স পরীক্ষা করা দরকার

সব বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স পরীক্ষা করা দরকার

মোঃ আসাদ উল্লাহ তুষার:

কোভিড-১৯ এর এই মহামারীর সময় অনেকেই অমানুষের মত আচরণ করছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবী যেখানে লন্ডভন্ড সেখানে এক শ্রেণীর মানুষ রুপি জানোয়ার এই দুঃসময়কে পুঁজি করে অন্যায়ভাবে অর্থকড়ি কামাইয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরেছে। কেউ কেউ করোনা ভাইরাস পরীক্ষার নামে জাল সার্টিফিকেট দিচ্ছে। কেউ দুই নম্বর স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বেচা বিক্রি করে বেশ অর্থকড়ি হাতিয়ে নিচ্ছে। মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে অমানুষের মত আচরণ করছে যা শুধু দুঃখজনকই না রীতিমতো অপরাধমূলক কাজ। বিশেষ করে যেখানে মানুষের জীবন নিয়ে যে বা যারা ছিনিমিনী খেলছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

আজ কয়েকদিন হলো এমন এক প্রতারকের কথা পত্রপত্রিকায় প্রধান আলোচনার বিষয়। অবৈধ রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান নামক এই প্রতারক মোঃ শাহেদ করোনাকালীন এই সময়ে টক অফ দ্য কান্ট্রি। যিনি কিনা হাসপাতালের নামে এক মরন ফাঁদ খুলেছিলেন। যেখানে করোনা পরীক্ষার নামে স্যাম্পল নিয়ে পরীক্ষা না করেই নেগেটিভ বা পজেটিভ রেজাল্ট দিয়ে দিতেন। কি ভয়ঙ্কর ব্যাপার! তাছাড়াও তার হাসপাতালের আইসিইউতে কোন ধরণের সাপোর্ট ছিল না যা সাধারণত থাকার কথা। সবচেয়ে বড় কথা এটা নামে শুধু হাসপাতাল ছিল, প্রকৃত অর্থে এটা ছিল একটি মরণফাঁদ। সবচেয়ে বড় কথা এই হাসপাতালের সরকারি কোন অনুমোদন ছিল না। বেসরকারি হাসপাতাল করতে সরকার থেকে প্রতিবছর বা নিদ্রিস্ট সময়ে যে লাইসেন্স নবায়ন করতে হয় তা সে বহুবছর যাবৎ করা থেকে বিরত ছিল। অর্থাৎ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সে এই হাসপাতাল নামক মরণফাঁদ খুলে বসে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে সাথে মানুষের পকেট কেটে লক্ষ কোটি টাকা নিয়েছে। এতবড় একটা অন্যায় কাজ সে দীর্ঘদিন থেকে করে আসছিল যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এব্যাপারে পুরোপুরি উদাসীন ছিল। উপরন্তু এই লাইসেন্সবিহীন রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা রোগীদের চিকিৎসার ব্যপারে চুক্তিও করেছে। তারা একবারও ভেবে দেখে নাই বা যাচাই করে নাই এই হাসপাতালের সরকারি অনুমোদন ঠিক আছে কিনা। অথবা এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা আছে কিনা? এসব যাচাই বাছাই না করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিভাবে এমন দুই নম্বরি এক হাসপাতালকে কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি দেয়। নিশ্চয়ই স্বাস্থ্যে অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থরা কোন অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এই অপকর্ম করেছে। তারা যদি সঠিকভাবে যাচাইবাছাই করে চুক্তি করতো তাহলে এই দুই নম্বরী রিজেন্ট হাসপাতালের করোনা রোগীদের চিকিৎসার কোন সুযোগই থাকতো না। এখানে বরাবরের মতোই ধন্যবাদ দিতে হয় এলিট ফোর্স র্যাবকে । যারা এই দুইনম্বরী হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তাদের এতদিনের অপকর্মের নমুনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছে। র্যাবের ভ্রাম্যমাণ টিমের চৌকস ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম ও তাঁর টিমকে ধন্যবাদ তাঁরা এই মহামারীর সময়ে এমন একটি দৃষ্টান্তমূলক ভালো কাজ করে দেশবাসীর ভালোবাসা আবারও অর্জন করলো। এই তথাকথিত রিজেন্ট হাসপাতাল ইতিমধ্যেই সিলগালা করে দিয়েছে এবং এর মালিক প্রতারক শাহেদকে র্যাব খুঁজে বেড়াচ্ছে। আশা করা যায় র্যাবের পূর্বের সফলতা অনুযায়ী এই প্রতারক মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনী খেলা শাহেদকে দ্রুত গ্রেফতার করে দেশবাসী যে আশায় আছেন তা পূরণ করবেন।

এই প্রতারক শাহেদ বেঢপ দেহ নিয়ে মিনমিন করে নানা অনৈতিক উপায়ে বিভিন্ন জনকে ‘ম্যানেজ’ করে টিভি টকশোতে কথা বলতো।আর এটাই ছিল তার সমস্ত অপকর্মের অলিখিত লাইসেন্স। এই টকশোতে চেহারা দেখানোর সুবাদে সে হেন কোন অপকর্ম নাই যে করে নাই। রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের বড় নেতা পরিচয় দিয়ে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে সেলফি টেলফি তুলে একধরনের ক্ষমতাশালী হোমড়াচমরা ভাবের একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতো। এখন শুনা যাচ্ছে এই হাসপাতাল ও টকশোতে নিজের চেহারা দেখিয়ে আরো অনেক ধরণের অপকর্ম সে অবলীলায় করে বেড়াত। তার এই অপকর্ম শুরু সর্বশেষ বিএনপি সরকারের হওয়া ভবনের হোমড়াচমরাদের সাথে উঠাবসা করে। হওয়া ভবনের গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সাথে জেলখানায় ছিলোও বছর দুই। তার এখনও তারেক রহমানের সাথে ভালো যোগাযোগ। কেমনে কেমনে সে এই সরকারের সময়ও আগের মতোই প্রতারণার জাল বিছিয়ে দিব্যি কয়েকবছর পার করে দিয়েছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না, ধরা তাকে পড়তেই হলো। সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকেও ধন্যবাদ তাঁর হাত থেকে অপকর্ম করে কেউ পার পান না বা পার হতে দেন না।জাতির ভরসার জায়গা এখন ওখানেই। হয়তোবা ছদ্দবেশ ধারণ করে অন্যায়কারীরা ঘাপটি মেরে বসে থাকে। কিন্তু শেষমেশ বঙ্গবন্ধু কন্যার দৃঢ়তার কাছে তাকে হার মানতে হয়।

কিন্তু দুঃখ একটাই সবকাজ তাঁকেই দেখতে হয়। সবাই যদি সঠিকভাবে সঠিকসময়ে ঠিক কাজটি করে তাহলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয় না। এখনকার আলোচিত বিষয় এই বেসরকারি হাসপাতাল। সারাদেশে যত বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক আছে একদম গ্রাম পর্যন্ত তাদের সবার সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স আছে কিনা বা থাকলে সময়মতো তা হাল নাগাদ করা হয় কিনা তা কঠোরভাবে যাচাই করা দরকার। যাদের সরকারি অনুমোদন নাই বা লাইসেন্সই নাই বা সময়মতো তা নবায়ন করে না সেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক অনতিবিলম্বে বন্ধ করে দেয়া হোক। এবং তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনী খেলা চিরতরে বন্ধ করা দরকার। আর যেসকল সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী বিশেষ করে স্বাস্থ্য দপ্তরের এইসব অপকর্মের সাথে জড়িত তাদেরও শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এখন না হয় শাহেদরা আলোচনায় কিন্তু এমন শাহেদ আরো অনেক আছে। আমরা অনেকেই অনেককে চিনি। সুট টাই পরে সারাদিন তদবীর বাণিজ্যের নাম করে প্রতারণা করে অনেকেই এই প্রতারণার জন্য বিদেশি ডিগ্রী বা ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রী পর্যন্ত লাগিয়ে সরকারি দলের নেতামন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে দেদারসে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। বেশিরভাগই সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে। এদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনলে সমাজে এই শাহেদদের প্রতারণা কিছুটা কমবে বলে আশা করা যায়। কারন এরা সমাজের, দলের এমনকি পরিবারেরও বোঝা। এদের কঠোর হস্তে দমন করা এখন সময়ের দাবি। যা বঙ্গবন্ধু কন্যার সরকারই পারে ।

লেখকঃ সম্পাদক, সংসদগ্যালারী টোয়েন্টিফোরডটকম

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top