সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং, ১ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

You Are Here: Home » অন্যান্য » পবিত্র ঈদ-উল-আযহা আগামীকাল

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা আগামীকাল

বিশেষ প্রতিনিধি :

 

আগামীকাল সোমবার পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। দুনিয়ার মুসলমানদের সাথে বাংলাদেশেও সর্বোচ্চ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, যথাযোগ্য মর্যাদা, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ত্যাগের মহিমায় কুরবানীর ঈদ উৎসব পালিত হবে। ঈদের দিন রাজধানীসহ দেশের সকল মুসলমান বিনম্র হৃদয়ে ঈদ-উল-আযহার নামায আদায় করবেন এবং নামায শেষে মহান রবের উদ্দেশে পশু কুরবানী দিবেন।

আল্লাহর রাহে নিজের জান-মাল ও প্রিয়তম জিনিস সন্তুষ্টচিত্তে বিলিয়ে দেয়ার এক সুমহান শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর ঈদ-উল-আযহা আমাদের মাঝে ফিরে আসে। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী কুরবানী করা ওয়াজিব। আল কুরআনের সূরা কাউসারে বলা হয়েছে, ‘‘অতএব তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে নামায পড় এবং কুরবানী কর।’’ সূরা হজ্বে বলা হয়েছে, ‘‘কুরবানী করার পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা।’’

কুরবানীর ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। সৃষ্টির প্রথম মানব হযরত আদম (আঃ) এর দু’পুত্র হাবিল ও কাবিল সর্বপ্রথম কুরবানী করেন। এ প্রসঙ্গে সূরা মায়েদায় ২৭ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, ‘‘আপনি তাদেরকে আদমের দু’পুত্রের বাস্তব অবস্থা পড়ে শোনান। যখন তারা উভয়েই কিছু কুরবানী করেছিল তখন তাদের একজনের কুরবানী কবুল হয়েছিল এবং অপরজনেরটি হয়নি।’’

কুরবানী মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর সুন্নাহ। আল্লাহ তাঁর কুদরতী পরিকল্পনায় ইব্রাহীম (আঃ)কে তাঁর শেষ বয়সে প্রিয়তম পুত্র ইসমাইল (আঃ)কে কুরবানী করার নির্দেশ দেন। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ৮৫ বছর বয়সে হযরত ইসমাইল (আঃ) কে পান। এ অবস্থায় ছেলেকে কুরবানী দেয়া এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু তিনি তাঁর মহান রবের হুকুমে নত হলেন। নিাপ পুত্র ইসমাইল (আঃ)ও নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। একপর্যায়ে পিতা তাঁর পুত্রকে জবাই করতে যখন উদ্যত তখন মহান আল্লাহর কাছে ঈমানের পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ। চোখ বাঁধা অবস্থায় তিনি জবাই করেন। চোখ খুলে দেখেন তাঁর প্রিয় পুত্র অক্ষত রয়েছে আর কুরবানী হয়েছে একটি চতুস্পদী দুম্বা।

আল কুরআনে এই মহিমান্বিত ত্যাগের ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো তখন ইব্রাহীম (আঃ) তাকে বললেন, হে বৎস! আমি স্বপ্ন দেখেছি তোমাকে জবাই করছি। এখন তোমার অভিমত কি? সে বললো, হে পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তাই করুন। আল্লাহ চাইলে আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করলো এবং ইব্রাহীম (আঃ) তাকে জবাই করার জন্য শায়িত করলেন তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহীম তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে। আমি এভাবেই সৎকর্মীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার পরিবর্তে জবাই করার জন্য দিলাম এক মহান জন্তু।’’ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর অনুপম ত্যাগের অনুসরণে হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্ব মুসলমানরা কুরবানী করে আসছে। তাঁরই নিদর্শনস্বরূপ প্রতি বছর হজ্ব পালনকারীরা কুরবানী দিয়ে থাকেন।

শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, কুরবানীর পূর্বশর্ত আল্লাহ ভীতি ও একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা। হাদীস শরীফে আছে, ‘মানুষের আমলের প্রতিফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। সূরা হজ্বে বলা হয়েছে, ‘‘এগুলোর গোশত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়।’’ প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘‘ যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কুরবানী দিলো না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।’’ (মুসনাদে আহমদ)
জিলহজ্ব মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোন একদিন কুরবানী করা যায়। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এ শ্রেণীর প্রাণী দ্বারা কুরবানী করা যায়। কুরবানীকৃত পশুর ৩ ভাগের ১ ভাগ গরীব-মিসকিন, একভাগ আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়। আবার পুরোটাই বিলিয়ে দেয়া যায়।

এদিকে ৯ জিলহজ্ব ফযর নামাযের পর থেকে ১৩ জিলহজ্ব আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তাকবীরে তালবিয়া পাঠ করা ওয়াজিব। তালবিয়াহ হলো, ‘‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’’

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ঈদ-উল-আযহার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি মহাসচিবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। সরকারিভাবে সচিবালয়সহ বড় বড় সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভবনসমূহে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। ঈদের দিন সরকারিভাবে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু সদনে উন্নতমানের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।

রাজধানীর কোথায় কখন ঈদের জামাত
আগামীকাল  সোমবার ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে উদযাপিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহা। মহান আল্লাহর নামে পশু কুরবানী ছাড়াও ঈদগাহে ধনী-গরিব এক কাতারে দাঁড়িয়ে দু’রাকাত নামায আদায় করা এই উৎসবের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। নামায শেষে কোলাকুলির অনাবিল আনন্দ চোখে সচরাচর চোখে পড়ে না। সবাই ভুলে যায় রাগ ক্ষোভ হিংসা আর বিদ্বেষ। ‘প্রত্যেক মুসলমান ভাই ভাই’ এ মূলনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ঈদের জামাত।
এবার ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহে সকাল ৮টায়। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে প্রধান জামাত একই সময়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতের পার্শ্বে পর্দা দিয়ে মহিলাদেরও ঈদের নামায আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশী রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য কূটনীতিক এবং তাদের পত্নীদের নামাযের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন মুসল্লীদের সুবিধার্থে ঈদগাহ ময়দানে ওজুর পানি সরবরাহ এবং মোবাইল টয়লেট স্থাপনেরও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বরাবরের মতো ডিসিসি’র উদ্যোগে ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সময়সূচি অনুযায়ী ঢাকা দুই মহানগরীর ৯০টি ওয়ার্ডে ৩৬০টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নামায আদায় করতে আসা মুসলিমদের গাড়ি পাকিং, ঈদগাহ মাঠ নামায উপযোগী করার লক্ষ্যে মাঠ সমতল করাসহ যাবতীয় প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ : বায়তুল মোকাররমে মোট ৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ১ম জামাত সকাল ৭টায়, ২য় জামাত সকাল ৮টায়, ৩য় জামাত সকাল ৯টায়, ৪র্থ জামাত বেলা ১০টায় ৫ম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল না থাকলে জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিতব্য সকাল ৮টার জামাতই ঈদের প্রধান জামাত হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top