সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং, ১ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

You Are Here: Home » ফটো গ্যালারী » রওশন এরশাদই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা !

রওশন এরশাদই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা !

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আসনটি শূন্য হওয়ায় এই পদে কে বসবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)-তে । কয়েকদিনের মধ্যে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে, দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, পার্টিতে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত-অর্থে সরকারের মনোভাব জানার পরই বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় রওশন এরশাদের প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সুসম্পর্ক থাকায় তিনিই এই পদে বসছেন। জাপার প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, দলটির নেতৃত্ব ও বিরোধীদলীয় নেতা ইস্যুতে দুটি ভাগ রয়েছে জাপায়।দলের বড় একটি অংশ ও বেশিরভাগ সংসদ সদস্যরা এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদকে চাইছেন বিরোধীদলীয় নেতার পদে। এই পক্ষটি এরশাদের জীবদ্দশায় ‘এরশাদবিরোধী’ অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল। আসন্ন প্রেসিডিয়ামের সভায় রওশনপন্থীরা যুক্তি তুলে ধরবেন। এই পক্ষের যুক্তি, এরশাদ জীবিত অবস্থায়ই নিজের স্ত্রীকে দশম সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচন করেছেন। এছাড়া, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই রওশনকে গুরুত্বসহ পার্টিতে জায়গা দিয়েছেন এরশাদ। পাশাপাশি জিএম কাদের জাপায় যুক্ত হয়েছেন অনেক পরে। অভিজ্ঞতায়ও তার কমতি দেখছেন রওশনপন্থী একাধিক নেতা।

রওশনপন্থী একাধিক প্রভাবশালী নেতা এও দাবি করেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জিএম কাদের মহাজোটের মন্ত্রিসভায় থাকলেও ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে হঠাৎই অবস্থান পরিবর্তন করেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে এখনও আপত্তি থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে রওশন এরশাদকেই নিরাপদ মনে করা হতে পারে।

প্রেসিডিয়ামের আরেক সদস্য দাবি করেন, ‘এরশাদের মৃত্যুর পর জাপার একতা, ঐক্য একমাত্র রওশন এরশাদের দ্বারাই সম্ভব। পার্টি কে চালাবে, সেটা বড় কথা নয়। অনেক দলেই এটা হচ্ছে, যিনি প্রবীণ তাকে সামনে রেখেই দল পরিচালিত হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গত দুই বছরে পার্টিকে সময় দেননি, কিন্তু দল কিন্তু তার নামেই চলেছে। সেক্ষেত্রে রওশন এরশাদ দলে সিনিয়র। দলকে একত্রিত রাখতে চাইলে রওশনের কোনও বিকল্প নেই। এছাড়া, পারিবারিক ধারাবাহিকতার দিক থেকেও রওশনই পাওয়ার যোগ্য।’

পার্টিতে রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম এমপি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন, এ নিয়ে পার্টির প্রেসিডিয়ামে আলোচনা হবে। রওশন এরশাদ জাপার শুরু থেকেই আছেন। এরশাদ তাকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে সবসময় দলে জায়গা দিয়েছেন। তিনি দলে প্রাজ্ঞ। রাজনৈতিক ও পারিবারিক জীবনের শুরু থেকেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে ছিলেন রওশন। এছাড়া, তিনি তো বিগত একটি সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনও করেছেন। এরপরও আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত হবে।’

রওশনপন্থী নেতাদের যুক্তি ও অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জাপার প্রেসিডিয়ামের সিনিয়র পর্যায়ের দুই নেতা। তারা জানান, মৃত্যুর আগেই এরশাদ তার ছোট ভাই জিএম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার পাশাপাশি তার অবর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করেন। একইসঙ্গে গত ২৩ মার্চ জিএম কাদেরকে সরিয়ে জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে মনোনীতও করেন। এই পরিবর্তনের কোনও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য প্রভাবশালী এই নেতা না বললেও তারা মনে করেন, যেভাবে এরশাদের অবর্তমানে জিএম কাদের দলের নেতৃত্ব পেয়েছেন। একই কারণে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তিনিই থাকবেন। এরা পার্টিতে জিএম কাদের পক্ষের লোক হিসেবে বিবেচিত।

 

জাপা চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক সচিব ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়ের দাবি, ‘জাপায় কোনও দ্বন্দ্ব নেই। যে বিষয়গুলোয় মতবিরোধ আছে, তাও প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে আলোচনা সাপেক্ষে ঠিক হয়ে যাবে।’

জানতে চাইলে জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে রওশন এরশাদ তো আছেনই। তিনি উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মিটিং করে এই বিষয়টির সমাধান করবো।’

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রওশন এরশাদের অভিজ্ঞতা আছে, এ প্রসঙ্গে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘তার অভিজ্ঞতা তো আছেই। তবে তিনি হবেন কিনা, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কারণ, এ বিষয়ে পার্টির কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

রওশনের পক্ষে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশিদ, ফখরুল ইমামসহ অধিকাংশ রওশন পন্থি। দলের বিরাট অংশও রওশন এরশাদকে দেখতে চায় । অন্যদিকে জিএম কাদেরর পক্ষে মসিউর রহমান রাঙ্গা,রুহুল আমিন হাওলাদার ও জিয়াউদ্দিন বাবলুরা কাদেরের পক্ষে ।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আসনে কে বসবেন, এ নিয়ে জাপার অভ্যন্তরে দুই পক্ষ থাকলেও উভয় অংশের নেতারাই জানিয়েছেন, শেষপর্যন্ত সরকারের সবুজ সংকেত যার দিকে থাকবে, তাকে অপজিশনের সিটে বসার অনুমতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনের বিষয়টি জাপাই ঠিক করবে। রওশন এরশাদ আগেও এ দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ভালোই চালিয়েছেন।’

জাপার শীর্ষপর্যায়ের একনেতা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিরোধী দলীয় নেতার আসনে কে বসবেন, এটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে, অবশ্যই সরকারের মনোভাব তো আমাদের জানতে হবে। এটা তো সংসদের বিষয়, তাদের অবস্থান একটা জানতে হবে।’

আপাততঃ রওশন এরশাদ বিরোধী দলীয় নেতা হলে উপনেতা হবেন সেক্ষেত্রে জিএম কাদের, যিনি শুরুতে এই সংসদের উপনেতা ছিলেন । এবং আপাতত পার্টির দায়িত্বেও থাকবেন জিএম কাদের । তাঁর গতিবিধি দেখে পরবর্তীতে জাপার নেতৃত্ব ঠিক হবে।

 

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top