সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং, ১ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

You Are Here: Home » ফটো গ্যালারী » বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়নি এরশাদের

বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়নি এরশাদের

সংসদ প্রতিবেদকঃ

একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম তিনটি অধিবেশনের ৫২ কার্যদিবসের মধ্যে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দুই দিন উপস্থিত ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধিবেশনের পুরোটাই সংসদের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে প্রথম অধিবেশনে দুইদিন উপস্থিত ছিলেন। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার স্বীকৃতি পেলেও এ সময়ে কোনও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়নি সাবেক রাষ্ট্রপতির এরশাদের।

বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভোগার পর রবিবার সকাল পৌনে ৮টায় এরশাদ মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২২টি আসনে জয়লাভ করে। জয়লাভের পর তাঁর দলের ২১ জন সংসদ সদস্য ৩ জানুয়ারি শপথ নেন। তবে, জাতীয় নির্বাচনের সময় দেশেই ছিলেন না এরশাদ। সেসময়ে তিনি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবশ্য রংপুর-৩ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন তিনি। দেশে ফিরে শপথ নেন ৬ জানুয়ারি। এ সময় তিনি হুইল চেয়ারে করে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কার্যালয়ে যান। শপথ নেওয়ার আগেই এরশাদ নিজেকে বিরোধী দলের নেতা ও পার্টির কো চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে বিরোধী দলের উপনেতা নিয়োগে স্পিকারের কাছে চিঠি দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১০ জানুয়ারি স্পিকার তাকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জিএম কাদেরকে ‍উপনেতার স্বীকৃতি দেন। সংসদ সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও ওইদিন জারি হয়। অবশ্য পরে এরশাদের অন্য একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে উপনেতা পদে জিএম কাদেরের পরিবর্তে রওশন এরশাদকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

শপথ নেওয়ার পর সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগেই ২০ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য আবার সিঙ্গাপুর যান এরশাদ। ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থেকে দেশে ফেরেন ৪ ফেব্রুয়ারি। এরই মধ্যে ৩০ জানুয়ারি শুরু হয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। দেশে ফেরার এক সপ্তাহের মাথায় ১০ ফেব্রুয়ারি প্রথম সংসদের বৈঠকে যোগ দেন এরশাদ। হুইল চেয়ারে বসে বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি ১৫ মিনিটের জন্য অবস্থান করে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। এরপর প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগে ৬ মার্চ আবারও বৈঠকে যোগ দিয়ে অল্প কিছু সময় তিনি সয়সদ কক্ষে অবস্থান করেন। এরশাদ দ্বিতীয় ও সর্বশেষ শেষ হওয়া তৃতীয় (২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট অধিবেশন) অধিবেশনে যোগ দেননি। তৃতীয় অধিবেশন চলাকালে গত ২৬ জুন অসুস্থ হয়ে তিনি সিএমএইচ-এ ভর্তি হন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন তিনি ।

প্রসঙ্গত: রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিটি অধিবেশনের সমাপনী দিনে বিরোধী দলীয় নেতা সংসদের বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পান। সংসদের প্রথম বা বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা এবং বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে বিরোধীদলীয় নেতার। এছাড়া তিনি চাইলে বৈঠকের যে কোনও দিনে ফ্লোর নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন।

এরশাদের অনুপস্থিতিতে একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনাসহ সমাপনী বক্তব্য রাখেন জিএম কাদের। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধিবেশনে বিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে সমাপনী বক্তব্য রাখেন রওশন এরশাদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-২) বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের তিনটি অধিবেশনে যতগুলো বৈঠক ছিল তার মধ্যে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ও ৬ মার্চ ২০১৯ বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপস্থিত ছিলেন।

আইন শাখার আরেক ‍উপসচিব বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, যতদূর মনে পড়ে বিরোধী দলীয় নেতা একাদশ সংসদের দুটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তবে এসময় তিনি কোনও বক্তব্য দেননি।

প্রসঙ্গত: চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ জুন শুরু হয়ে ১১ মার্চ পর্যন্ত চলে। ওই অধিবেশনের মেয়াদ ছিল ২৬ কার্যদিবস। দ্বিতীয় অধিবেশন ২৪ এপ্রিল শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল শেষ হয়। চলে ৫ কার্যদিবস। সর্বশেষ তৃতীয় ও চলতি বছরের বাজেট অধিবেশন ১১ জুন শুরু হয়ে ১১ জুলাই শেষ হয়। মাঝে এক সপ্তাহের মতো বিরতি দিয়ে এটি চলে ২১ কার্যদিবস।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top